মন্দিরে আগুন দেয়ার সময় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নিরব ছিল-অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া

minঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশ্ব বৌদ্ধধর্ম ঐক্য ফেডারেশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেছেন, “মন্দিরে আগুন দেয়ার সময় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নিরব ছিল। এতে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, কোনো সম্প্রদায়িক দল নয়, সরকারের মদদেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে।”

রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: স্বরূপ সন্ধান’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও বিচারপতি আবদুর রউফ, বিশ্ব বৌদ্ধধর্ম ঐক্য ফেডারেশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি অ্যালবার্ট ডি কস্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি ইউসুফ হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, সাবেক সাংসদ নিতাই রায় চৌধুরী ও  কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী।

এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, “দেশে দশম জাতীয় সংসদে বিনা ভোটে একটি বিরাট অংশ নির্বাচিত হয়ে ফ্যাসিবাদি, নাৎসিবাদী কাণ্ড ঘটিয়েছে সরকার। এ থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে ফেরাতেই সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আর এর দায় চাপানো হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের ওপর।”

অসুস্থ আর নোংরা রাজনীতির কারণে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন ড. এমাজউদ্দীন। সাম্প্রতিক এসব ঘটনার প্রকৃত দোষিদের চিহ্নিত করতে ‘নাগরিক কমিটি’ গঠনের দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে এ ধরণের হামলার ‍বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী।

খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি এলবার্ট ডি কস্তা বলেছেন, মুসলমানরা নৃশংস নন, আর বাংলাদেশে জঙ্গিও নেই। যারা বারবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন তারাই সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান নেই। দেশের রাজনীতিকরা তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করে মুসলমানদের ওপর দোষ চাপিয়ে মিথ্যাকে সত্য, আর সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করছেন।

মুসলিম সম্প্রদায়কে শান্তিপ্রিয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মুসলমানরা নৃশংস নন, আর বাংলাদেশে জঙ্গিও নেই। যারা বারবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন তারাই এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীরা কোনো দেশ, জাতি, দল ও ধর্মের লোক হতে পারে না। তারা সুশীল সমাজ হতে বিবর্জিত। এদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তি দিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।

বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, “সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশী কিন্তু বাঙালি নয়। আর বাঙালি ও অবাঙালি নিয়েই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। তাই বাঙালি-অবাঙালি বিবেচনা না করে যেদিন দেশে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন দেশ সাংম্প্রদায়িক হামলা মুক্ত হবে। তা না হলে দেশ অবাঙালি শূন্য হয়ে পড়বে।”

অ্যালবার্ট ডি কস্তা বলেন, “দেশের রাজনীতিকরা তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যই পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। অতীতেও হয়েছে। দেশের উদার মুসলিম ভাইয়েরাই আমাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারেন। প্রকৃত দোষিদের চিহ্তি করতে স্বরূপ সন্ধানের উদ্যোগ নিলেই এসব ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটবে। নয়তো হায়েনার গোষ্ঠি অতীতের মতো এমন আরো ঘটনা ঘটাবে।”

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ছোট-খাটো রাজনৈতিক ঘটনা ছাড়া সাম্প্রদায়িক হামলা ও জঙ্গীবাদের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, “ভোটারবিহীন ভোটের বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। নির্যা তিতরা বলছেন এসব ঘটনা সরকারি দলের লোকজন ঘটিয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী ১৮ দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। আজ দেশে সব জাতি-গোষ্ঠি নিরাপত্তাহীনতায়। সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ।”

শওকত মাহমুদ বলেন, “সাংবাদিকরা সব সময় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। সংখ্যালঘুরা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারতে চলে যাওয়ার আহ্বান পেয়েও তারা দেশে অবস্থান করেছিল। তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। বর্তমান সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়।”

সূত্রঃ নতুন বার্তা

Advertisements
This entry was posted in in Bangla, News and tagged , , , , . Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s