বাঁশখালীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন দীঘির মাছ লুট

বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রামস্থ হিন্দু সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন ব্রাক্ষ্মন পাড়া দীঘির মাছ লুট করেছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। আজ ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০.৩০ মিনিটে অপূর্ব ভট্টাচার্য্যের মালিকানাধীন দীঘিতে ভূমি ব্যবসায়ী মো. নূরুন্নবী প্রকাশ নূরুল আলমের পৃষ্ঠপোষকতায় স্থানীয় বাণীগ্রামের সন্ত্রাসী ওসমান গনি (৩৫) পিতা মৃত গনি আহমদ, জাহিদউদ্দীন চৌধুরী (৩২) পিতা মো. আইয়ুব, মো. জসিম উদ্দীন (২৮) পিতা মো. ইউনুস, মো. আজিমুল ইসলাম (৩২) পিতা নূর আহমদ ও নজরুল ইসলাম পিতা আবু আহমদ, সাং গুনাগরী এর নেতৃত্বে ৪০-৫০ স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে দীঘিতে জাল দিয়ে প্রায় ২ (দুই) লক্ষ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায় এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে।

বাঁশখালীতে আজকে একজন মন্ত্রীর আগমন ও দীঘিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও দিন দুপুরে সন্ত্রাসীদের এমন ভয়ঙ্কর কর্মকান্ড দেখে এলাকাবাসী হতবিহ্বল হয়ে পড়ে এবং অতি স্বল্প সময়ে এ ঘটনা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। দীঘির মালিক অপূর্ব ভট্টাচার্য্যের ছেলে সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসী ওসমান গনি (৩৫) তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে এবং উল্টো মাছ লুটের মামলা করা হবে বলে হুমকি দেয়।

সন্ত্রাসীদের অপর গ্রুপ অপূর্ব ভট্টাচার্য্যের মালিকানাধীন চিত্ত রঞ্জন মার্কেটের দোকান সমূহের ক্যাশ বাক্স লুট করে নিয়ে যায়। এই লুট কার্যক্রমে কালীপুরের মো. ফোরকান (২৭) পিতা মৃত নূরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে বাঁশখালীর অনেক চিহিৃত ডাকাত অংশগ্রহণ করেছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান পিপিএম এর মোবাইলে একাধিক যোগাযোগ করা হলেও ফোনে পাওয়া যায়নি।

আমাদের প্রতিনিধি’র অনুসন্ধানে জানা যায় উক্ত ব্রাক্ষ্মন পাড়া দীঘি আর.এস. রেকর্ডীয় মালিক প্রয়াত সুশীল চন্দ্র রায় ও প্রয়াত সুভাষ চন্দ্র রায় বিগত ২৬/০৫/১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে চিত্ত রঞ্জন ভট্টাচার্য্যের সাথে বায়নানামা সম্পাদন করে দখল হস্তান্তর করেন। উক্ত সময় থেকে বিগত ৪২ বৎসর যাবত চিত্ত রঞ্জন ভট্টাচার্য্য ও তার মৃত্যু পরবর্ত্তী পুত্র অপূর্ব ভট্টাচার্য্য অদ্যবধি উক্ত দীঘি ও সংলগ্ন জমিতে মৎস্য, ধান চাষ, দোকান গৃহ নির্মাণে ব্যবসা পরিচালনা ও ভাড়ায় লাগিয়তে সর্ব সাধারণের জ্ঞাতসারে ভোগ দখলে স্থিত আছে। বাণীগ্রাম রায় এষ্টেট উক্ত সম্পত্তি কখনো সুণীল চন্দ্র রায়ের নামে বন্দোবস্তী প্রদান করেননি। ফলে সুণীল চন্দ্র রায়ের নামে প্রচারিত পি.এস ও বি.এস খতিয়ান ভূল/ভিত্তিহীন ঘোষণার নিমিত্তে পটিয়া ও ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বিভিন্ন মামলা বিচারাধীন আছে। কথিত মালিক অনুরেখা রায় থেকে ভূমি ব্যবসায়ী মো. নূরুন্নবী প্রকাশ নূরুল আলমের পুত্র মো. আসাদুজ্জামান আমমোক্তারনামা নিয়ে আদালতের নির্দেশ উপক্ষা করে বিগত ফ্রেবুয়ারী ২০০৩ থেকে একাধিকবার একটি স্বশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে অপূর্ব ভট্টাচার্য্যের মালিকানাধীন এই ব্রাক্ষ্মন পাড়া দীঘি দখলের চেষ্ঠা চালিয়ে আসছে। এর আগে বিগত ২৪/০২/২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে ভূমি সন্ত্রাসীরা ব্রাক্ষ্মন পাড়া দীঘি দখলের চেষ্ঠা করলে তৎকালীন ও.সি. আব্দুস সবুর ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করেন এবং উক্ত ঘটনা বাঁশখালী থানায় ১০৫৩ নং সাধারণ ডায়েরীভূক্ত আছে।

দীঘি দখলের এই ঘটনায় এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে বাঁশখালী থানার তৎকালীন ও.সি. আব্দুস সবুর ও ইউ.এন.ও শাব্বির ইকবাল দু’পক্ষের সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সস্মত্তি সংক্রান্তে আদালতে বিভিন্ন মামলা থাকায় উপজেলা প্রশাসন আদালতের চুড়ান্ত রায় পর্যন্ত উভয় পকে অপো করতে বলে। ভূমি সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির প্রেক্ষিতে অপূর্ব ভট্টাচার্য্য ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে উক্ত সস্মত্তির উপর নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনা করলে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। ভূমি সন্ত্রাসীদেরকে জবর দখল প্রক্রিয়া থেকে বিরত রাখার জন্য অপূর্ব ভট্টাচার্য্য গত ১৩/০৫/২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবরে আবেদন করেন। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ০৯/০৬/২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে পুলিশ সুপার চট্টগ্রাম সহকারী পুলিশ সুপার সাতকানিয়া সার্কেলকে ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রদান করেন। এ.এস.পি. সাতকানিয়া সার্কেল ১১/০৬/২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে উক্ত অভিযোগ তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বাঁশখালী থানাকে নির্দেশ দেন।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান পিপিএম উক্ত অভিযোগ ডায়েরী নং-২৬৯, তাং- ০৬/০৭/২০১৩ হিসেবে লিপিবদ্ধ করে এস.আই. আব্দুল মান্নান ভূইয়াকে তদন্তভার অর্পন করেন। এস.আই এর তদন্তে বিভিন্ন সময়ে ভূমি ব্যবসায়ীরা দীঘির মালিক অপূর্ব ভট্টাচার্য্যকে হুমকি প্রদান করার সত্যতা খুজে পাওয়া যায়। জান মাল বিনষ্টের সম্ভাবনা রহিয়াছে এবং সন্ত্রাসীরা বদ মেজাজী লোক হিসেবে রিপোর্ট প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে রাজাকার ইউনুস, জাহিদউদ্দীন চৌধুরী, মো. ওসমান ও মো. জসিমউদ্দীনের নিকট থেকে সদাচরনের মুচলেকা গ্রহনের প্রার্থনায় ০৮/০৭/২০১৩ তারিখে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। যা বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট কোর্টে নন এফ.আই.আর ৪৩/১৩, তাং ০৮/০৭/২০১৩ হিসেবে অন্তভূক্ত হয়। উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন, চুরি, ডাকাতি ও চাঁদার দাবীতে হামলা করার মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্ঠান এক্য পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক তাপস হোড় এ ব্যাপারে বলেন এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিধায় আমরা বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ রাখছি। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা এসব সন্ত্রাসীদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের আই.জি’র হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সূত্র: নিউজ ইভেন্ট

Advertisements
This entry was posted in in Bangla and tagged , . Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s