নাটোরে যুবলীগ নেতার সন্ত্রাস সংখ্যালঘু পরিবারকে মারধর

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পাটুলে এক হিন্দু পরিবার তাদের নিজের সোয়া ১৪ শতক জমি স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতিকে বাদ দিয়ে অন্যের কাছে বিক্রি করায় পরিবারের নারী ও পুরুষ সদস্যদের প্রকাশ্যে মারপিট ও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। গত তিনদিন ধরে পরিবারটি বাড়ির বাইরে বের হতে না পারায় থানায় মামলা ও হাসপাতালে চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে পারছে না। তার বিরুদ্ধে মন্দিরের জমি দখল ও পরিবারটির বাজারের নিজস্ব ঘরে তালা মারাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

নির্যাতিত এই পরিবারের পক্ষে নাটোর জেলা প্রশাসক, র‌্যাব ও পুলিশের কাছে দেয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, পাটুল গ্রামের অনিল কুমার দেবের ছেলে তড়িৎ কুমার ও অলোক কুমার তাদের ক্রয়সূত্রে পাওয়া ১৬ শতক জমির মধ্যে পৌনে দুই শতক জমি ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করলে একই গ্রামের আকবর হোসেন মৃধার ছেলে স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আনোয়ারের ভাই আক্তার হোসেন তাদের নিকট থেকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা নেয় এবং জমি বিক্রি করলে তাদের কাছে বিক্রি করতে হবে বলে জানায়।  সম্প্রতি তারা বাকী সোয়া ১৪ শতক জমি একই এলাকার জয়েন হাজির ছেলে রবির কাছে বিক্রি করে। স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে বাদ দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করায় গত বুধবার  সন্ধ্যায় যুবলীগ সভাপতি আনোয়ার, তার ভাই আক্তার, আফজাল ও আলাল আরো কয়েকজনকে নিয়ে বাজারের দিলিপের দোকানের সামনে অনিল কুমার দেবের ছেলে তড়িৎ কুমার ও অলোক কুমারকে মারপিট করে। এ সময় অলোকের স্ত্রী লিপি রাণী আসলে তাকেও মারপিট করা হয়। ঘটনার পর থেকে বাড়ির সামনে পাহাড়া বসিয়ে নির্যাতিতদের থানা ও হাসপাতালে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মারপিট নয় শুধু একটি চড় মাড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান। অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, এই জমি কেনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম রবির মার্কেটে কোনো ব্যক্তি কিছু ক্রয় করতে গেলে তাকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হবে বলেও মাইকে ঘোষণা দেয়। অভিযুক্তরা হিন্দু পরিবারটির বিসিআইসি সার ডিলার শামসুল ইসলামের কাছে ভাড়া দেয়া বাজারের নিজস্ব ঘরটিও তালা দিয়ে দিয়েছে। অভিযুক্তরা নদীর জমি দখল করে রানা প্লাজা নামে একটি মার্কেট তৈরি করেছে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন পাটুল ঘোষপাড়া কালি মন্দিরের সাড়ে তিন বিঘা জমি জবর দখল করে ভোগ করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব ব্যাপারে প্রধান অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন বলেছেন, মন্দিরের জমি তিনি চাষ করেন তার বিনিময়ে প্রতি বছর তিন হাজার টাকা দেন। আর জেলা যুবলীগ সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান নির্দেশ দেয়ায় হিন্দু পরিবারটির ভাড়া দেয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালা শুক্রবার বিকেলে খুলে দেয়া হয়েছে। রবি মার্কেটে কোনো মানুষকে কেনাকাটা না করার জন্য মাইকিং করার বিষয়ে তিনি বলেছেন, জমি কেনার জন্য নয়, হাটের ইজারা না দেয়ায় হাট কমিটির পক্ষেই এই মাইকিং করা হয়েছে।

নাটোরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেছেন, ঘটনাটি তার জানা নেই, নির্যাতিত পরিবারের পক্ষে যে কেউ অভিযোগ করলে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=144615

This entry was posted in in Bangla and tagged . Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s