হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অভিমত ‘সংখ্যালঘু নিপীড়ন ঠেকাতে রাষ্ট্র ব্যর্থ’

c676754c67e73828b8dd80f9b14fbd85-42

 

আজকের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ১৯৫১ সালে জনসংখ্যার ২৩ দশমিক ১ শতাংশ ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। ২০১১ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার এই চিত্র প্রমাণ করে, সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত আছে। এই অশুভ প্রক্রিয়া ঠেকাতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে গতকাল শনিবার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ‘অ্যাটরোসিটিজ অন মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব অভিমত দেওয়া হয়। বইটিতে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, এ কথা বলে অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে।’ এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৯০-এর দশক পর্যন্ত সেখানে মুসলামানসহ অন্য সংখ্যালঘুরা কংগ্রেসের ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু পরে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর উত্থানে সেখানে সংখ্যালঘুরা সেসব দলের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিরোধী দলগুলো সংখ্যালঘুদের আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচনা করে। তাই রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের ভূমিকাকে গ্রাহ্য করে না দলগুলো। 
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচ্য বিষয় ছিল, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে নিপীড়নের প্রসঙ্গ। এ প্রসঙ্গে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জমান বলেন, সেসব হামলা ঠেকাতে প্রশাসন সব ক্ষেত্রে সফল হয়নি সত্য। তবে নাগরিক সমাজ তাদের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। 
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাংসদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে প্রয়োগ নেই। রাষ্ট্র, সমাজ সবখানে সাম্প্রদায়িকতা আছে। কিন্তু এর নিরসনে প্রচেষ্টা নেই।’ 
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর স্বীকারোক্তি, ‘মহাজোট সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি, এ কথা স্বীকার করতে বাধা নেই।’ 
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বলেন, ষাট বা সত্তরের দশকে রাজনৈতিক দলগুলো শোষণহীন রাজনীতির কথা বলত। কেমন সমাজ চান এর একটা চিত্র তুলে ধরত। এখন তাদের মুখে কেবল শোনা যায়, মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার কথা। 
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ঊষাতন তালুকদার। শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মহিউদ্দিন আহমেদ, রানা দাশগুপ্ত প্রমুখ।

 

source: প্রথম আলো
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/213559/সংখ্যালঘু_নিপীড়ন_ঠেকাতে_রাষ্ট্র_ব্যর্থ

Advertisements
This entry was posted in in Bangla and tagged , , , . Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s