আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের জমি দখলের অভিযোগ

image_88710_0মিরসরাই উপজেলার ১২ নম্বর খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাহেদ ইকবাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩০ একর পাহাড়ি জায়গা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের জায়গা-জমি দখলের প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান তাদেরকে বেশি বাড়াবাড়ি করলে বাড়ি থেকেও উচ্ছেদ করে ভারত পাঠিয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন।

এই বিষয়ে ওই পাহাড়ি জায়গার মালিক প্রশান্ত রায়, মুক্তিযোদ্ধা সুশান্ত কুমার রায়, ইঞ্জিনিয়ার শ্রী কান্ত রায়, ডা. সুকান্ত কুমার রায়, সৌমেন কান্তি রায়, সৌর কান্তি রায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে একাধিক অভিযোগ করেও কোনো পরিত্রাণ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।

সর্বশেষ গত ১৩ জুন জায়গা দখল নিয়ে চরম উত্তেজনার পর চেয়ারম্যানের লোকজনের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের হাতাহাতি ও হামলার ঘটনায় প্রায় ১০ জন আহত হয়। ওই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, শিগগির চলমান এই সমস্যার সমাধান না হলে যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী পূর্ব খৈয়াছড়া মৌজায় স্থানীয় মৃত শংকর রায়ের পুত্রদের ৩০ একর পাহাড়ী জমি জোরপূর্বক চেয়ারম্যানসহ আরো ২৪-২৫ জন সন্ত্রাসী দখল করে পাহাড় থেকে মাটি ও গাছ বিক্রি, পুকুর খনন ও বসতঘর নির্মাণ করেছে। এছাড়া প্রায় ২ একর  ফসলি জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক খাল খনন এবং ১ একর জায়গার উপর দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণের পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। ওইসব পাহাড়ি জায়গা ইতির্পূর্বে শংকর রায়ের পুত্ররা বর্গা দিয়েছিলো। বর্গাচাষীরা ওইসব জায়গায় ছনের চাষ করতো।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১০ সালে চেয়ারম্যান জোরপূর্বক ওইসব পাহাড় থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেন করার জন্য মাটি বিক্রি করে দেন। একই বছর ওইসব পাহাড়ে শংকর রায়ের পুত্ররা সামাজিক বনায়নের জন্য বন বিভাগের নিকট দরখাস্ত করলে সৃজিত বাগান ও পাহাড়গুলো পরিদর্শন শেষে বিট কর্মকর্তা রিপোর্ট প্রদান করতে চাইলে তাকে চেয়ারম্যান ইউপি কার্যালয়ে বেঁধে বেদড়ক মারধর করেন। পরবর্তীতে বন বিভাগ নিরাপত্তার অভাবে ওই রিপোর্ট প্রদান করেনি। ২০১২ সালে অর্পিত সম্পত্তি ‘খ’ তফসিল প্রকাশ হওয়ারপর চেয়ারম্যান অর্পিত সম্পত্তি সরকারি এবং সরকারি জমি যারা দখলে রাখতে পারবে তারা এর মালিক হবে বলে চাষাদের মধ্যে প্রচার করতে থাকে ও নানা রকম প্রলোভন দেখায়। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে চেয়ারম্যান তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে পূর্ব খৈয়াছড়া মৌজায় বর্গাচাষী নুরুল আবছার, আলমগীর, ইউনুছ শাহ, বেলাল হোসেন, নুরুল ইসলাম, আবছার, আবুল বশরসহ আরো অনেককে হুমকি দিয়ে জমি থেকে উচ্ছেদ করে।

২০১৪ সালে চেয়ারম্যান পাহাড়ি জায়গার পার্শ্বে পূর্বের একটি ছড়া দখল করে সেখানে পুকুর খনন ও বসতঘর নির্মাণ করে। ওই পাহাড়ে ২০১০ সালের পরবর্তী সময়ে সৃজিত প্রায় ২৫ হাজার গাছ কেটে নেয় এবং কিছু গাছ বাঁধের নিচের মাটিতে চাপা দিয়ে দেয় চেয়ারম্যান। এসব বিষয়ে চেয়ারম্যানের দখলে নেয়া জমিগুলোর বর্গাচাষীরা বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করলে তাদেরকে ৭ হাত মাটির নিচে পুঁতে হত্যা করার হুমকি দেওৎয়া হয়।

এসব বিষয়ে খৈয়াছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরীকে অভিযুক্ত করে ওইসব পাহাড়ি জায়গার মালিক প্রশান্ত রায়, মুক্তিযোদ্ধা সুশান্ত কুমার রায়, ডা. সুকান্ত কুমার রায়, সৌমেন কান্তি রায়, সৌর কান্তি রায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের দখল করা জায়গায় একটি পুকুর খনন করেছেন। পাশাপাশি একটি বসতঘরও নির্মাণ করেছেন। দখলকৃত জায়গার মধ্যে পুকুরে একটি নামফলক লাগানো হয়েছে যাতে উল্লেখ রয়েছে ‘প্রস্তাবিত আহম্মদের রহমান চৌধুরী প্রবীণ নিবাস ও আব্দুল হাই চৌধুরী অনাথ নিবাস’। যা সকল ধর্মাবলম্বীদের জন্য উন্মুক্ত এবং এটি উদ্বোধনের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৫ অক্টোবর, ২০১২।

অন্য নামফলকে লেখা রয়েছে ‘জনক-জননী কৃষি উদ্যান’ চেয়ারম্যান টিলা ১, ২ ও ৩ এবং ব্যবস্থাপনায় জাহেদ ইকবাল চৌধুরী। দখলীয় জমিতে যে বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে তাতে লাগানো সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে ‘চেয়ারম্যান হিল লাইফ কার্যালয়, অনাথ নিবাসও প্রবীণ নিবাস, জনক-জননী বহুমুখী কৃষি উদ্যান, চেয়ারম্যান টিলা, পূর্ব খৈয়াছড়া, বড়তাকিয়া, মিরসরাই’।

এবিষয়ে পাহাড়ি জায়গার মালিকদের পক্ষে প্রশান্ত রায় জানান, “আমরা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় আমাদের জায়গা-জমির উপর চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নানানভাবে সম্পদ জবর দখল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে আছেন। ২০১২ সালে চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক তার নির্দেশে আমাদের মৌরশী পাহাড় থেকে আমাদের লাগানো গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় বড়তাকিয়া বাজারে জনসম্মুখে আমার ছোট ভাই সৌর কান্ত রায়কে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। চেয়ারম্যান আমাদেরকে বেশি বাড়াবাড়ি করলে বাড়ি থেকেও উচ্ছেদ করে ভারত পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেন।”

এবিষয়ে খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদ ইকবাল চৌধুরী সাংবাদিকদের ফোনে জানান, ১৯৭৬, ১৯৭৯, ২০০২ সালে আমার মা ফয়েজুন্নেছা চৌধুরানীর নামে প্রায় ২৪ একর জমি জ্ঞান শংকর রায়, চিত্ত রঞ্জন রায়, সুরেখা রানী রায়, দেবাশীষ রায় মোট ৪ টি কবলা দিয়েছে।” চেয়ারম্যান ওই কবলার খরিদমূল্যে বর্তমানে এই জায়গা থেকে মাটি বিক্রি, গাছ বিক্রি ও বসতঘর নির্মাণ করে দখলে নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরো জানান, “আমি কবলাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এএসপি সার্কেল সীতাকুণ্ড এর অফিসে জমা দেব।”

সূত্র: নতুন বার্তা

Advertisements
This entry was posted in in Bangla and tagged , , . Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s